July 13, 2024

স্বদেশ Tribune

গণ মানুষের খবর

সালথায় আ‌ধিপত‌্য নি‌য়ে সংঘর্ষে নিহত-১ আহত-৩০: বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট

1 min read

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথায় গ্রাম্য দলপক্ষকে কেন্দ্র করে আ‌ধিপত‌্য বিস্তার নি‌য়ে সংঘর্ষে সিরাজুল ইসলাম (২৭) নামে এক যুবক নিহত হবার খবর পাওয়া গে‌ছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই গ্রুপের অন্তত আরও ৩০ জন, সংঘ‌র্ষে ৫০টির মত বাড়িঘরে হামলা চা‌লি‌য়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার খারদিয়া গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। নিহত সিরাজুল ইসলাম খারদিয়া গ্রা‌মের ঠাকুর পাড়া এলাকার মো. ইশারত মোল্যার ছেলে। তিনি পাশের ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন এবং প্রায় ৭/৮মাস আ‌গে বিবাহ ক‌রেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

স্থানীয় সু‌ত্রে জানা যায়, এলাকার দলপক্ষকে কেন্দ্র করে গত এক মাসে খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্যার সমর্থকদের সাথে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সমর্থকদের একাধিক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ রফিক ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে পুলিশের উপর হামলা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান। গত ২৮ এপ্রিল তারা উভয়ই আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। জামিনে এসে আবার এলাকায় দলপক্ষ ভারী করা ও আ‌ধিপত‌্য বিস্তার নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে চরম উত্তেজনা চলছিল। চলমান উত্তেজনা মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার দিকে দুই গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জ‌ড়ি‌য়ে পড়ে। এতে আলমগীরের সমর্থক সিরাজুল ইসলাম, মারুফ মীর ও শহিদ মোল্যা মারাত্বক আহত হয়। এরমধ্যে সিরাজুল ইসলাম মারা যান। সিরাজুলের মারা যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে রফিকের সমর্থকরা পিছু হটলে প্রায় অর্ধশতাধীক বা‌ড়িঘ‌রে হামলা চা‌লি‌য়ে ভাংচুর ও লুটপাট ক‌রে সংঘর্ষকারী।

সংঘর্ষে সিরাজুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান বলেন- খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। তাতে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে না আসায় বেশ কয়েক রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও ক্যাদানে গ্যাস ছুড়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন- সংঘর্ষটি শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি না হওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হয়েছিল। কারণ একটি গ্রুপ হঠাৎ এসে অপর গ্রুপের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট শুরু করে, পুলিশ আসলেই ভাঙচুরকারীরা পালিয়ে যায়। এভাবে পুলিশের চোখ ফা‌ঁকি দিয়ে তারা খন্ড খন্ড হয়ে বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। ভাঙচুর চলাকালে হাতেনাতে লুট করা গরু, ফ্রিজ ও আসবাবপত্রসহ সংঘর্ষে জড়িত থাকায় ৩ জন নারীসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.